হীট স্ট্রোক

উচ্চ তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলে হীট স্ট্রোক হয়। সাথে যদি আদ্রতা বেশী থাকে তবে আরও বেশী হবে। শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন প্রথমে ঘাম হয়, এক পর্যায়ে ঘাম কমে যেতে পারে তখন যদি মস্তিষ্কের যে সেন্টার এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তা যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তবে হীট স্ট্রোক হবে। হীট স্ট্রোকে অনেক রোগী মারা যায়। যারা মারা যায় তাদের শরীরের তাপমাত্রা ১১২ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ১১৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। আমরা যে থার্মোমিটার সাধারনতঃ ব্যবহার করে থাকি তা দিয়ে যদি তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার চেয়ে বেশী হয় তবে মৃত্যুহার ৫০%। অধিক তাপমাত্রায় শরীরের রক্তনালীগুলি প্রসারিত হয়ে যায়। ফলে শরীরের রক্ত সেইসব রক্তনালীতে এসে জমা হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। রক্ত চলাচল কম হওয়ার কারণে শরীরের মাংসপেশী এমন কি হৃদপিন্ডের মাংশপেশীতে পচন ধরতে পারে। হৃদপিন্ডের কাজ তখন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায় ফলে রক্তনালীর ভেতরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধে। বয়ষ্ক লোক, যাদের হার্টের অসুখ আছে, মিলিটারী কিংবা পুলিশে যারা রোদের মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে তাদের সাধারনতঃ হীট স্ট্রোক হয়ে থাকে।
শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এর উপরে উঠে তখন হীট স্ট্রোক হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় রোগীর মাথাব্যথা,বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এই পর্যায়ে রোগীর শরীরে কাঁপনি আসতে পারে। মানসিক বিভ্রম দেখা দিতে পারে। এমনকি রোগী উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে। রোগীর চামড়া অত্যন্ত গরম হয়ে যাবে কারণ তখন শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে যায় কেননা সেই তাপমাত্রায় মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে রোগী শকে চলে যেতে পারে, রক্তে ল্যাকটিক এসিডের আধিক্য দেখা দেওয়া, রক্তনালীর বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধা, মাংসপেশীতে পচন ধরা, লিভার এবং কিডনী অকেজো হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুস ও মস্তিষ্কে পানি জমে যাওয়া ইত্যাদি পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
চিকিৎসা ঃ
রোগীকে পুর্ণজীবন দান করতে হলে তাড়াতাড়ি শরীরে পানির ছিটা দিতে হবে, পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে এবং কপালে কিংবা কুচকিতে বরফের টুকরা দিতে হবে। শরীরে ঠান্ডা স্যালাইন পুশ করতে হবে।
সুযোগ থাকলে যে সকল পরীক্ষা করতে হবে –
১। ব্লাড কাউন্ট
২। রক্তে শর্করা
৩। রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টরগুলি দেখতে হবে
৪। লিভার এবং মাংশপেশীর এনজাইম দেখতে হবে
৫। এবং সবশেষে বুকের এক্সরে করতে হবে

জরুরী চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করে বাকী চিকিৎসা দিতে হবে। উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারলে রোগী ১-২ঘন্টার মধ্যে ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু যে সকল রোগীর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এর উপরে উঠে গেছে তাদের পরবর্তীতে মাংসপেশীতে পচন ধরেছে কিনা কিংবা কিডনী খারাপ হয়ে গেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। রোগীকে স্পষ্ট বলে দিতে হবে যাতে সে উচ্চ তাপমাত্রা পরিহার করে এবং প্রচন্ড শারীরিক ব্যায়াম না করে।

অধ্যাপক ডা: এ কে এম আমিনুল হক
প্রাক্তন অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

Comments are closed

  • Topics related suggestions: